Preaload Image

মৎস্য চাষে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন - ৫১ টাকায় উৎপাদিত হবে প্রতি কেজি মাগুর মাছ

আলোকচিত্রী হওয়ার স্বপ্ন বুনতে বুনতে স্নাতক পাঠ শেষ করেন । এরপরই শুরু হয় ফটোগ্রাফিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ। শিখে ফেলেন গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজও। নিজের শুরু সম্পর্কে বলেন, আলোকচিত্রী হওয়ার শখ ছিল। স্নাতক শেষ করে ভর্তি হন ‘পাঠশালা’য়। খ্যাতিমান আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদের কাছে মডেল ফটোগ্রাফির প্রশিক্ষণ নেন। গ্রাফিকস ডিজাইনের ওপরও কোর্স করেন এক বছরের। ২০০৭ সালে একদিন ছবি তোলার জন্য ময়মনসিংহ গিয়ে সেখানে মাছের খামার দেখে ভালো লাগে। রাতারাতি সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন সিলেটের অন্যতম সফল এ উদ্যোক্তা। এরপর বাড়িতে এসে নিজেদের ৬৫ শতাংশ জমিতে মাছের খামার গড়ে তোলেন। ওই বছরের শেষের দিকে ড্রিম হ্যাচারি ও ফিশারিজ’ নামে পোনা উৎপাদন শুরু করেন। হঠাৎ জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়া এ যুবকের নাম বেলাল আহমদ ইমরান। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা গ্রামে তার বাড়ি।

সিলেটে তিনিই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেন, শিং-মাগুর মাছের একমাত্র হ্যাচারিটিও তার। সবজি আর মাছ চাষের নেশায় ডুবে যান তিনি। শিং মাছ ছাড়াও পাবদা, মাগুর ও টেংরা চাষ করেন ইমরান। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শহীদুল ইসলাম বিশ্বনাথে ক্যাপসিকামের একটি প্রদর্শনী করেন। তার প্রদর্শনী দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেন। তিনি বলেন আমি যখন শুরু করি, তখন সিলেটে কেউ ক্যাপসিকাম চাষ করতো না। অথচ এটির অনেক চাহিদা ছিল। আমি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্যাপসিকাম ও নাগা মরিচ চাষ শুরু করি। প্রথম বছর এক বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেন যার উৎপাদন ব্যয় হয় ৭০ হাজার টাকা আর বিক্রি করেন ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকায়। ইমরানের উদ্যোগের সাফল্য দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন কৃষি খামারে। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কৃষিতে এসে জাতীয় পুরুষ্কার পেয়েছেন অনেকে।

হঠাৎ করেই একদিন বেলাল আহমদ ইমরান সিলেট বিভাগে বিডা ব্র্যান্ডিং-এর একটি প্রচারণার মাধ্যমে জানতে পারেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যার নাম ‘উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প’। উক্ত প্রকল্পের অধীনে বিনামূল্যে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ছুটে যান সিলেট জেলা শহরে অবস্থিত উক্ত প্রকল্প অফিসে। অফিসে গিয়ে কথা বলেন প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক-এর সাথে, জানতে পারেন একটি যুগপোযোগী মডিউলের মাধ্যমে ব্যবসা এবং বিনিয়োগের একটি কাঠামোগত প্রশিক্ষণ প্রদানের কথা। সেখান থেকে তিনি শুনতে পান উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের কথা যিনি নিষ্ঠার সাথে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য অজ©নে,  যিনি  সারাদেশে শিক্ষিত বেকার যুব পুরুষ ও মহিলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা তৈরীতে ভীষণভাবে সচেষ্ট। ইমরান তৎক্ষণাত উক্ত প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণের জন্য নিজেকে নিবন্ধিত করেন এবং সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন। এর পরপরই তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখতে পান যে ভিডিওটি ছিল একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে উদ্যোক্তাদের নিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়া একজন প্রকল্প পরিচালকের কথা। তিনি হচ্ছেন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প (ESDP)’র প্রকল্প পরিচালক জনাব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান। উক্ত সাক্ষাৎকারে তিনি উদ্যোক্তাদের জন্য গৃহীত উক্ত প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন। উক্ত সাক্ষাৎকারে প্রকল্প পরিচালকের একটি উক্তি ছিল এমন “এ প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্র এতটাই ব্যাপৃত যে, একদিন যদি ২৪ ঘন্টায় না হয়ে ৪৮ ঘন্টায় হতো তাহলে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যেত, প্রকল্পের সার্বিক কার্যাবলী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি এটি উপলব্ধি করেছেন” তাঁর এই উক্তি শুনে বেলাল আহমদ ইমরান খুবই আগ্রহের সাথে পুরো ভিডিওটি দেখেন এবং ভাবেন একজন সরকারি কম©কর্তা যদি এভাবে পরিশ্রম করতে পারেন উদ্যোক্তাদের জন্য, তাহলে তিনি নিজেও একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে আরোও অনেক বেশি পরিশ্রম করতে পারবেন। এরপর থেকেই ইমরান নিজের সাহস সঞ্চার করেন এবং উদ্বুদ্ধ হন বৃহত্তর আঙ্গিকে তার পরিকল্পনা সাজাতে, ভাবনায় নিমজ্জিত হন কিভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়। তারপর তিনি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন বায়োফ্লক ফিস ফেক্টরী তৈরী করার। ইতিমধ্যে তিনি ২০ হাজার লিটার পানিতে ১১০০ কেজি দেশী মাগুর মাছ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। তার বায়োফ্লক ফিস ফেক্টরীতে আধুনিকতা ও প্রকৃতি নির্ভর প্রযুক্তি সংযোজন করেছেন। বিশ্বের কোথাও এমন কোন টেকনোলজি স্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন বেলাল আহমদ ইমরান। তিনি বলেন তার এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে ১ কেজি মাগুর মাছ উৎপাদন খরচ হয় মাত্র ৫১ টাকা যা শতভাগ বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। মাছের খাবার হিসেবে বাজারের কোন ফিড ব্যবহার করছেন না তিনি। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ গতানুগতিক মাছ চাষের চাইতে ৪০ গুন বেশী উৎপাদিত হবে। বেলাল আহমেদ ইমরান বলেন, তিনি ESDP থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এবং প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের ভিডিও ক্লিপ দেখে তিনি নিজ উদ্যোগেই এ কম©পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালক জনাব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান সিলেট বিভাগে অবস্থিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ পরিদশ©ন করেন। ইমরান তখন তাঁর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন এবং তার উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অতঃপর প্রকল্প পরিচালকের পরামশ© নিয়ে তিনি বত©মানে এক লক্ষ লিটার পানি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে বায়োফ্লক ফিস ফ্যাক্টোরীর মতো উদ্যোগ গ্রহণের সাহস গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করেন তাঁর কথায় তিনি উদ্বুদ্ধ হয়েছেন, সাহস পেয়েছেন এবং আগামী বছরের মধ্যে তিনি ৪৮ লক্ষ লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংক স্থাপনের জন্য কাজ শুরু করবেন যেখান থেকে অটোমেশন পদ্ধতিতে মাত্র ৬ বিঘা জমি থেকে মাগুর মাছ উৎপাদিত হবে বছরে ৫৭৬ টন। তার ধারণা এটাই হবে বিশ্বের মাছ উৎপাদনের মডেল। প্রকল্প পরিচালকও তার এই উদ্যোগের সাথে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার জন্য আশ্বাস প্রদান করেন। ESDP থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে এবং প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে বত©মান সরকার কর্তৃক উদ্যোক্তাদের জন্য গৃহীত সকল পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকার যেসকল সুবিধাদি প্রণয়ন করছেন সে সম্পর্কে তিনি অবহিত হন। তিনি সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের মতো এত সুন্দর একটি প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য। তিনি বলেন, এমন প্রজেক্ট চালু থাকলে জিডিপিতে উদ্যোক্তারা সরাসরি ভূমিকা পালন করতে পারবে। তার এ উদ্যোগে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য বেলাল আহমদ ইমরান ESDP’র প্রকল্প পরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান এর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। ইতিমধ্যে তিনি মৎস্য চাষে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক ২০১৩, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সম্মাননা ২০১৬ ও জেলা ও উপজেলা থেকে অসংখ্য পুরুষ্কার পেয়েছেন।

মুঠো ফোন: ০১৭১২-১৬৪৩৩৯

imranphotography@gmail.com

নতুন উদ্যোগের গল্প : ওডেসি কনজিউমার লিমিটেড

উদ্যোক্তার নামঃ মোঃ সাইফুল হক (নিবন্ধন নং৩৬০১২৪)

উদ্যোগের নামঃ ওডেসি কনজিউমার লিমিটেড

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প” এর হবিগঞ্জ জেলার প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তা, হবিগঞ্জ জেলার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হতে ১ মাস ব্যাপী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করে সাফল্যর সাথে কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি ট্রেড লাইসেন্স, টিন নম্বর, আরজেএসসি নিবন্ধন, ট্রেড মার্ক নিবন্ধন, নতুন স্থাপনা তৈরি, ইত্যাদি সম্পূর্ণ করে ভোগ্য পণ্য (ওডেসি কনজিউমার লিমিটেড) উৎপাদন করতে যাচ্ছেন । গত সপ্তাহে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু মেশিনারিজ ক্রয় করেছেন । প্রাথমিকভাবে তার কোম্পানীর মূলধন ৫৫ লাখ টাকা । তার প্রতিটি পদক্ষেপে ইএসডিপি হবিগঞ্জ সীমিত কর্তৃত্বের মধ্যে ও সর্বাধিক সহযোগিতা ও মোটিভেশন দিয়ে পাশে থেকেছে । এ জন্য তিনি সম্মানিত নির্বাহী চেয়ারম্যান স্যার,সম্মানিত প্রকল্প পরিচালক স্যার, সম্মানিত উপ পরিচালক, সম্মানিত সহকারি পরিচালক স্যারদের ও ইএসডিপি হবিগঞ্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন ও দোয়া চেয়েছেন।

বিশ্ব পরিমন্ডলে পরিচিত হোক রুবা খানমের অটোমেশন পদ্ধতিতে ফুল উৎপাদন ও বিপণন

যে কোনো পুরস্কার পাওয়াই আনন্দের বিষয়, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পুরস্কার কাজের স্পৃহা আরও বাড়িয়ে দেয়। এভাবেই পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করলেন আইএফআইসি ব্যাংক-সমকাল বর্ষসেরা নারী উদ্যোক্তা সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা গ্রামের মেয়ে রুবা খানম। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন, সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী উন্নয়ন খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআই এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সমকাল ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তাফিজ শফি। তার মায়ের শুরু করা কাজ তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন অনেক দূরে। মা আফিয়া খানমের নামে নিজ গ্রামে গড়ে তুলেছেন আফিয়া খানম ফিশারিজ। তার বাবা-মা লন্ডন প্রবাসী। বাবা একজন ব্যবসায়ী আর মা গৃহিণী। তারা ছয় বোন, এক ভাই। তিনি ছাড়া অন্য ভাইবোনরা সবাই লন্ডন প্রবাসী। রুবা খানম হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ৬ একর জমির ওপর ৬টি পুকুরে গড়ে তুলেছেন, করেছেন ফিশারিজ খামার। তার মা আফিয়া খানম পারিবারিক একটি পুকুরে ব্যক্তিগতভাবে ২০০৯ সালে প্রথম মৎস্য চাষ শুরু করেন। ২০১১ সালে তার মা লন্ডন প্রবাসী হন। মায়ের স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে তিনি মৎস্য চাষের হাল ধরেন। মাত্র ১৫ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মৎস্য চাষ শুরু করেন। মৎস্য খামারের পাশাপাশি প্রায় ১০০ বিঘার মতো কৃষি জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। সেখানে তিনি কমবাইন্ড হারভেস্টর, রাইস ট্রান্স প্লান্টারসহ নানা ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এ প্রসঙ্গে রুবা খানম বলেন, কাজগুলো আমি নিজেই ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করি। আমাকে সহযোগিতা করেন দু’জন নারীসহ চারজন কর্মচারী। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেক মানুষ এখানে কাজ করেন। প্রায়ই বাবা-মা দেশে বেড়াতে আসেন। তারা আমার এই কাজ দেখে মানসিকভাবে সহযোগিতা করেন। আমার এগিয়ে যাওয়ার পথে মা-বাবাই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

রুবা খানম কোন এক বিকেলে হঠাৎ আবিস্কার করেন সিলেট শহরের বিভিন্ন জায়গায় কিছু বুথ স্থাপনের মাধ্যমে একটি নিবন্ধন কায©ক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। তিনি ছুটে যান সেখানে এবং দেখতে পান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) হতে একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে যেখানে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণার্থী নিবন্ধন করা হচ্ছে। তিনি সেখানে খুঁজে পান সিলেট জেলা উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহায়তা কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ সমন্বয়ককে। তার কাছ থেকে জানতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বিডা হতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন শীষ©ক প্রকল্প হতে একযোগে দেশের ৬৪ জেলায় দেশের শিক্ষিত ও বেকার যুব পুরুষ ও মহিলাদেরকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য বিনামূলে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী সিলেট জেলায়ও এরকম প্রশিক্ষণ কায©ক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তারপর তিনি একদিন সিলেট জেলা শহরে অবস্থিত উক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যান এবং প্রশিক্ষণের জন্য নিজের নাম নিবন্ধন করেন। সেই থেকে শুরু নতুন উদ্যোমে, উদ্ভাবনী চিন্তা ধারার মাধ্যমে ব্যতিক্রমধর্মী একটি উদ্যোগ গ্রহণ করার। অতঃপর সফলভাবে সমাপ্ত করেন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রদান করা প্রশিক্ষণ। ESDP থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর নিজেকে এখন পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী গোছানো মনে করেন তিনি। তিনি এখন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সংক্রান্ত আইন ও বিধির বিষয়ে বেশ পারঙ্গম। প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে তিনি প্রশিক্ষণ সমন্বয়কের কাছ থেকে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জনাব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান-এর কত©ব্যনিষ্ঠার কথা জানতে পারেন যিনি উদ্যোক্তাদের জন্য দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ইচ্ছাপোষণ করেন প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করার। সিলেট জেলার প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক তার সিলেট জেলার বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের আগ্রহের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করলে তিনি সিলেট জেলার উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কায©ক্রম পরিদশ©নে সিলেট গমন করেন। সেখানে রুবা খানমসহ সিলেট জেলার অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সাথে প্রকল্প পরিচালক সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং উদ্যোক্তাদের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত হন। অতঃপর তিনি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের গৃহীত সকল উদ্যোগের বিষয়ে উদ্যোক্তাদের অবগত করেন। প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্যে তাৎক্ষনিকভাবে রুবা খানম সহ অন্যান্য উদ্যোক্তারা উদ্বুদ্ধ হন। প্রকল্প পরিচালক তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের নীতি নির্ধারনির আলোকে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার সর্বাত্মক আশ্বাস প্রদান করেন। রুবা খানম বলেন ESDP থেকে প্রশিক্ষণ শেষে এবং প্রকল্প পরিচালকের কথায় ভীষনভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি সাহস সঞ্চার করেন এবং নিজ থেকেই ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রকল্প পরিচালকের সাথে টেলিফোনে তার নতুন উদ্যোগের বিষয়ে অবহিত করেন এবং তার প্রেরণায় তিনি নতুন এ উদ্যোগ গ্রহণে সম্পূণ©রূপে সচেষ্ট হন। তিনি বলেন তার এ উদ্যোগ হচ্ছে অটোমেশন পদ্ধতিতে ফুল উৎপাদন ও বিপণন যা হচ্ছে রপ্তানীযোগ্য বিশ্বসেরা ১০টি জাতের ফুল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ। তার এ ফুল চাষ প্রক্রিয়া হবে সম্পুর্ণ অটোমেশনে। যে ফুল ইতিপূর্বে বাংলাদেশে চাষ সম্ভব হয়নি, অচিরেই উৎপাদন ও রপ্তানীর জন্য বাংলাদেশের নতুন দিক উন্মোচন হবে বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশে অনেক জাতের ফুল উৎপাদন হয়, তার মতে কোয়ালিটি সম্পন্ন ফুল উৎপাদন করা না গেলে বিদেশে রপ্তানী করা সম্ভব নয়। তাই নিজ উদ্যোগেই বিদেশ থেকে অনেক ধরনের ফুলের বীজ সংগ্রহ করবেন। তিনি তার এ নতুন উদ্যোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক তাকে যে সাহস যুগিয়েছেন তাতে তিনি ভীষনভাবে আশ্বস্ত হয়েছেন এবং প্রকল্প পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য যে, রুবা খানম ২০১৬ সালে সিলেট জেলা উইমেন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি এফবিসিসিআই এর জেনারেল বডি মেম্বার পদ লাভ করেন। বর্তমানেও তিনি এফবিসিসিআই এর জেনারেল বডি মেম্বার। ২০১৭ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সফর করেন। নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল প্রডাক্টিভিটি ট্রেনিং, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, মৎস্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মৎস্য চাষবিষয়ক প্রায় ২০টি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি তার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নারীদের কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কাজ শুরু করেছেন। তার হাত ধরে অনেকেই কৃষিকাজে আসছেন। শুধু নারীরা নয়, তার দেখাদেখি কৃষি কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন পুরুষরাও। তিনি নারীদের জন্য কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর। পুরস্কার নিয়ে কখনও ভাবেননি তিনি। মানুষ ভালো কাজ করলে সবাই এমনিতেই ভালো বলবে বলে মনে করেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-২০১৬ পান। এছাড়াও তিনি জেলা ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন। পেয়েছেন সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার।

 

মুঠো ফো: ০১৭২২-৩১৩৪৬০

akhanomfisheries@gmail.com